কাছিমা মোড় থেকে জারুলতলা বাজার পর্যন্ত রাস্তা খানাখন্দে মরণফাঁদ – চলাচলে দুর্ভোগ
এনামুল হক :
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ গুঠাইল কাছিমামোড় থেকে জারুলতলা বাজার হয়ে দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক আতঙ্কের নাম। সড়কের প্রায় ৪ কিলোমিটার অংশ জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে মরণফাঁদে পরিণত হয়, যার ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জারুলতলা বাজার, মলমগঞ্জবাজার, কুলকান্দী, দেওয়ানগঞ্জ সহ উত্তরাঞ্চলের হাজার হাজার যানবাহন ও মানুষ চলাচল করেন। অথচ দীর্ঘকাল সংস্কারের ছোঁয়া না লাগায় সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেহাল এই রাস্তার মাঝখানে ছোট বড় গর্তের কারণে যানবাহনগুলোকে ঝুঁকি নিয়ে হেলেদুলে চলতে হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকগুলো গর্তে পড়ে গিয়ে প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে।
এ পথে নিয়মিত চলাচলকারী অটোরিকশাচালক রাজন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। গাড়ি চালানোর সময় চাকা কখন গর্তে ঢুকে যায় টেরই পাওয়া যায় না। সারাক্ষণ দুর্ঘটনার ভয়ে থাকতে হয়। আমরা দ্রুত এই রাস্তা মেরামতের দাবী জানাই।
স্থানীয় একজন চাকরিজীবি বলেন, এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ শত শত রোগী আনা-নেওয়া করা হয়। ভাঙা রাস্তার কারণে সময় যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি মানুষের শারীরিক কষ্টও বাড়ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের এমন দশা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতারই বহিঃপ্রকাশ।
অন্যদিকে জারুলতলা বাজার থেকে উপজেলা মডেল মসজিদ হয়ে থানা মোড় পর্যন্ত রাস্তারও বেহালদশা। সামান্য বৃষ্টিতে তৈরী হয় জলাবদ্ধতা। উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সংস্কারের অভাবে প্রতিনিয়তই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয়রা।
দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সড়কগুলো সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। জনদুর্ভোগ লাঘবে কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যানবাহন চালক ও সাধারণ জনতা।
ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ জানান, সড়কটির বর্তমান বেহাল অবস্থায় আছে, ২০২৬/২৭ অর্থবছরে সড়কটির সংস্কারের কাজ করা হবে।