ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরআন বুকে নিয়ে কৃষক দল নেতার দাবি, ‘আমাকে পথের কাঁটা মনে করেই ফাঁসানো হয়েছে’

  • নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময়: ০৮:৫৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • 3

কোরআন বুকে নিয়ে কৃষক দল নেতার দাবি, ‘আমাকে পথের কাঁটা মনে করেই ফাঁসানো হয়েছে’

কোরআন শরীফ বুকে নিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়ন কৃষক দলের বহিষ্কৃত সভাপতি মো. মতিউর রহমান তারা তালুকদার।

মাদক মামলায় প্রায় দেড় মাস কারাভোগের পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধায়) নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর বাড়িতে কোনো মাদক ছিল না বাইরে থেকে ইয়াবা এনে তাঁর বাড়ির আঙিনা থেকে উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে।

মতিউর রহমান তারা মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের সিন্দুরা ফসল গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের দুরমুঠ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ছিলেন।

গত ১৫ আগষ্ট তাঁকে গ্রেপ্তারের পর ১৭ আগস্ট মেলান্দহ উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মো. মতিউর রহমান বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক শাহজামাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মতিউর রহমান বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান বাদল সহ-সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, যুবদলের হেলাল, হযরত আলী আন্না প্যানেল চেয়ারম্যান বিলাশ সরকার, সভাপতি অপুসহ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করে আসছিলেন।
এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তিনি দলের কিছু নেতার বিরাগভাজন হন। একপর্যায়ে তাঁকে ‘পথের কাঁটা’ হিসেবে সরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

কোরআন শরীফ বুকে নিয়ে তিনি বলেন, আমার ঘরে কোনো মাদক ছিল না। বাইরে থেকে ইয়াবা এনে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি বলেই আমার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মতিউর রহমান দাবি করেন, তিনি সাজানো মামলায় প্রায় দেড় মাস কারাভোগ করেছেন। ২৪ এর আন্দোলনের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি দলের ভেতরের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় কয়েকজন নেতা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন এর জেরেই তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

মতিউর রহমানের স্ত্রী বিউটি বেগম সংবাদ সম্মেলনে ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা দাবির অভিযোগ করে বলেন,
অভিযানের পর তাঁর কাছে প্রথমে দুই লাখ টাকা চাওয়া হয়। পরে অনেক অনুরোধ করেও বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় গহনা বন্ধক রেখে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, হেলাল উদ্দিন নামে ডিবির এক সদস্য ওই টাকা চেয়েছিলেন। টাকা দেওয়ার পর তাঁর স্বামীর মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে দলের নেতাদের বিরুদ্ধে তাঁকে ফাঁসানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুরমুঠ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সৈয়দ রাশেদুজ্জামান অপু মিয়া। তিনি বলেন, ‘তাঁর আনা অভিযোগ সঠিক নয়। পুলিশ ইয়াবা পেয়েছে, তাঁকে ধরেছে। আমরা কী করব? আপনারা স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কেমন মানুষ। দলের কেউ তাঁকে ফাঁসায়নি।’

অপরদিকে পুলিশের দাবি, গত ১৬ আগস্ট দিবাগত রাতে মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের সিন্দুরা ফসল এলাকায় মতিউর রহমান তারার বাড়িতে অভিযান চালায় জেলা ডিবি-২।
এ সময় তাঁর বসতবাড়ি থেকে ২০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তাঁকে আটক করা হয়। পরল ১৭ আগস্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামালপুর ডিবি-২-এর এএসআই হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘তাঁর কাছে মাদক পাওয়া গিয়েছিল বলেই তাঁকে আটক করা হয়েছে। টাকা লেনদেনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমার বক্তব্য এখন যা, মৃত্যুর পরও তা-ই থাকবে। আপনারা তাঁর আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

ট্যাগ:
রিপোর্টারের সম্পর্কে

ইসলামপুরে নেই এসিল্যান্ড, ব্যাহত ভূমি সেবা

কোরআন বুকে নিয়ে কৃষক দল নেতার দাবি, ‘আমাকে পথের কাঁটা মনে করেই ফাঁসানো হয়েছে’

প্রকাশের সময়: ০৮:৫৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

কোরআন বুকে নিয়ে কৃষক দল নেতার দাবি, ‘আমাকে পথের কাঁটা মনে করেই ফাঁসানো হয়েছে’

কোরআন শরীফ বুকে নিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়ন কৃষক দলের বহিষ্কৃত সভাপতি মো. মতিউর রহমান তারা তালুকদার।

মাদক মামলায় প্রায় দেড় মাস কারাভোগের পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধায়) নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর বাড়িতে কোনো মাদক ছিল না বাইরে থেকে ইয়াবা এনে তাঁর বাড়ির আঙিনা থেকে উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে।

মতিউর রহমান তারা মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের সিন্দুরা ফসল গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের দুরমুঠ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ছিলেন।

গত ১৫ আগষ্ট তাঁকে গ্রেপ্তারের পর ১৭ আগস্ট মেলান্দহ উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মো. মতিউর রহমান বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক শাহজামাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মতিউর রহমান বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান বাদল সহ-সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, যুবদলের হেলাল, হযরত আলী আন্না প্যানেল চেয়ারম্যান বিলাশ সরকার, সভাপতি অপুসহ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করে আসছিলেন।
এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তিনি দলের কিছু নেতার বিরাগভাজন হন। একপর্যায়ে তাঁকে ‘পথের কাঁটা’ হিসেবে সরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

কোরআন শরীফ বুকে নিয়ে তিনি বলেন, আমার ঘরে কোনো মাদক ছিল না। বাইরে থেকে ইয়াবা এনে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি বলেই আমার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মতিউর রহমান দাবি করেন, তিনি সাজানো মামলায় প্রায় দেড় মাস কারাভোগ করেছেন। ২৪ এর আন্দোলনের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি দলের ভেতরের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় কয়েকজন নেতা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন এর জেরেই তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

মতিউর রহমানের স্ত্রী বিউটি বেগম সংবাদ সম্মেলনে ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা দাবির অভিযোগ করে বলেন,
অভিযানের পর তাঁর কাছে প্রথমে দুই লাখ টাকা চাওয়া হয়। পরে অনেক অনুরোধ করেও বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় গহনা বন্ধক রেখে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, হেলাল উদ্দিন নামে ডিবির এক সদস্য ওই টাকা চেয়েছিলেন। টাকা দেওয়ার পর তাঁর স্বামীর মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে দলের নেতাদের বিরুদ্ধে তাঁকে ফাঁসানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুরমুঠ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সৈয়দ রাশেদুজ্জামান অপু মিয়া। তিনি বলেন, ‘তাঁর আনা অভিযোগ সঠিক নয়। পুলিশ ইয়াবা পেয়েছে, তাঁকে ধরেছে। আমরা কী করব? আপনারা স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কেমন মানুষ। দলের কেউ তাঁকে ফাঁসায়নি।’

অপরদিকে পুলিশের দাবি, গত ১৬ আগস্ট দিবাগত রাতে মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের সিন্দুরা ফসল এলাকায় মতিউর রহমান তারার বাড়িতে অভিযান চালায় জেলা ডিবি-২।
এ সময় তাঁর বসতবাড়ি থেকে ২০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তাঁকে আটক করা হয়। পরল ১৭ আগস্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামালপুর ডিবি-২-এর এএসআই হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘তাঁর কাছে মাদক পাওয়া গিয়েছিল বলেই তাঁকে আটক করা হয়েছে। টাকা লেনদেনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমার বক্তব্য এখন যা, মৃত্যুর পরও তা-ই থাকবে। আপনারা তাঁর আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।