
বিদ্যালয়ের মাঠে বালু-খোয়া পরিবহনে ব্যবহার হচ্ছে , নিষেধ করেও মিলছে না প্রতিকার
মোঃ এনামুল হক : –
শিশুদের খেলাধুলা আর আনন্দের জায়গা হওয়ার কথা বিদ্যালয়ের মাঠ। অথচ সেই মাঠই এখন ব্যবহার হচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বালু-খোয়া পরিবহনের পথ হিসেবে। এতে একদিকে নষ্ট হচ্ছে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, অন্যদিকে ধুলাবালি ও যানবাহনের চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার মোহাম্মদপুর বালুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়ভাবে রাস্তা মেরামতের কাজ চলায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার করে বালু ও খোয়া পরিবহন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠের ওপর দিয়ে বালু-খোয়া বহনকারী যানবাহন চলাচল করছে। এতে মাঠের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। ধুলাবালির কারণে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী মোন্না জানায়, মাহিন্দ্র গাড়ি দিয়ে বালি নিয়ে যার মাঠ দিয়ে তখন আমরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারি না, গাড়ি যাওয়ার সময় বালি উড়ে আমাদের শরীরে ও বই খাতায় আসে, তখন নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এই শ্রেনীর আর এক শিক্ষার্থী জানায় মাঠ দিয়ে যখন গাড়ি যাতায়াত করে তখন গাড়ীর শব্দে আমরা পড়াশোনা করতি পারি না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার না করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার হয়নি। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকেও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এরপরও মাঠ ব্যবহার বন্ধ হয়নি।
প্রশ্ন উঠেছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ কি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালামাল পরিবহনের বিকল্প রাস্তা? শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ যেখানে অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা, সেখানে অভিযোগের পরও কেন বন্ধ হচ্ছে না মাঠের ব্যবহার এমন প্রশ্নই এখন স্থানীয়দের।
বিষয়টি জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বর্ণজিৎ দেবকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, “আমার সময় নেই, ইউএনও স্যার ডেকেছে আমাকে, সেখানে যেতে হবে।”
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ জুবায়ের বলেন, , সংশ্লিষ্ট দপ্তর এর প্রতিনিধি’কে সরেজমিন পরিদর্শন করতে পাঠানো হবে,রিপোর্ট এর প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিদ্যালয়ের মাঠে এভাবে বালু-খোয়া পরিবহনের অনুমতি কে দিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না এবং প্রধান শিক্ষকের অভিযোগের পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, শিশুদের খেলার মাঠ কোনোভাবেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিবহনপথ হতে পারে না। দ্রুত বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্টাফ রিপোর্টার 














