ঢাকা ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সার নিতে এসে ডিলারের দোকান বন্ধ পাওয়াই হতাশ কৃষক , ব্যাহত কৃষকের কর্মযজ্ঞ

সার নিতে এসে ডিলারের দোকান বন্ধ পাওয়াই হতাশ কৃষক , ব্যাহত কৃষকের কর্মযজ্ঞ

মোঃ এনামুল হক : –

ফসলের মাঠে কৃষকের ব্যস্ত সময়। আমনসহ বিভিন্ন ফসলের পরিচর্যায় নিয়মিত প্রয়োজন সার। কিন্তু জামালপুরের বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে সার সংগ্রহ করতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে একদিকে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের কর্মঘণ্টা, অন্যদিকে সময়মতো ফসলে সার প্রয়োগ নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

কৃষকদের অভিযোগ, দিন যত যাচ্ছে বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে সারের জন্য অপেক্ষার সারিও তত দীর্ঘ হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পেয়ে অনেক কৃষককে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।

১২টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত উপজেলায় কৃষকদের সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে ২২টি বিসিআইসি ডিলার পয়েন্ট থেকে। সরেজমিনে বিভিন্ন ডিলার পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, সার নিতে সকাল থেকেই কৃষকরা ভিড় করছেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষার সারি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও প্রয়োজনমতো সার না পাওয়ায় ইসলামপুর উপজেলা চরমন্নিয়া এলাকার আলম মিয়াসহ একাধিক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী,বেলগাছা,পাথর্শী, ইউনিয়নের, নাছির, মোতালেব, রশীদ, আলমসহ একাধিক কৃষকের ভাষ্য, ফসলের পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সারের পেছনেই দিনের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে। ডিলার পয়েন্টে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে খোলা বাজারে যাচ্ছেন। সেখানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

শুধু সার সরবরাহ নয়, ডিলার পয়েন্ট নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের মুনু মিয়া ও সাপধরী ইউনিয়নের প্রজাপতি গ্রামের কৃষক রশীদ মিয়াসহ একাধিক কৃষক। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন ইউনিয়নে ডিলার পয়েন্ট নির্ধারণে নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। প্রতিটি ইউনিয়নে তিনজন ডিলার থাকার কথা থাকলেও কোথাও একজন, আবার কোথাও চার থেকে পাঁচজন ডিলার রয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।

উপজেলা কৃষি অফিস ও কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নে দুটি এবং সাপধরী ইউনিয়নে রয়েছে একটি, বেলগাছা ইউনিয়ন একটি ডিলার পয়েন্ট। এ ছাড়া বিএডিসির অধিকাংশ ডিলার পয়েন্টই পৌর শহরকেন্দ্রিক বলে অভিযোগ কৃষকদের।

১৮সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল দশটার দিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার গুঠাইল বাজারে মেসার্স লিমা এন্টারপ্রাইজ, মানিকুল ইসলাম,এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মিজান এন্ড সন্স এন্টারপ্রাইজের ডিলার পয়েন্ট সাপধরী,বেলগাছা ইউনিয়ন চরবাসীরা হাটে এসে দোকান বন্ধ থাকায় সার নিতে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসার অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা।
এ ছাড়া এ অঞ্চলের অধিকাংশ ডিলার পয়েন্ট নিয়মিত খোলা না থাকার অভিযোগও রয়েছে তাদের।

কৃষকদের দাবি, যেসব ইউনিয়নে ডিলারের সংখ্যা বেশি, সেখানে বরাদ্দও বেশি যাচ্ছে। বিপরীতে কম ডিলার থাকা ইউনিয়নে তুলনামূলক কম বরাদ্দ পাওয়ায় সারের প্রাপ্যতায় বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এর ফলে কোনো কোনো ডিলার পয়েন্টে দীর্ঘ লাইন তৈরি হলেও অন্য এলাকায় তুলনামূলক কম চাপ থাকছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৫৫৭০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আমন চাষ হচ্ছে। পাশাপাশি ৫০০ হেক্টরের বেশি জমিতে বিভিন্ন ফসল ও সবজির চাষাবাদ চলছে। ফলে এ সময়ে কৃষকদের জন্য প্রতিটি দিনই গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পারলে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

কৃষকদের দাবি, ডিলার পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘ লাইন কমাতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় সার পাওয়ার নিশ্চয়তা চান তারা।

তবে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। তাহলে সরেজমিনে ডিলার পয়েন্টগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও কৃষকদের ভোগান্তির কারণ কী—সরবরাহে ঘাটতি, নাকি বিতরণ ব্যবস্থাপনায় সমস্যা?

এ বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সালের বলেন, যে পরিমাণ ডিলার থাকার কথা সে পরিমাণে নেই। নতুন নিয়োগ হলে এই সংকট কেটে উঠবে। আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করছি কৃষকের শ্রম ও সময় যেন সারের লাইনে আটকে না থাকে। কৃষকরা যাতে স্বচ্ছতার সাথে সার সংগ্রহ করতে পারে সেজন্য নিয়মিত আমরা পরিদর্শন করছি। তবে কিছু কৃষক গুজবের কান দিয়ে অগ্রিম সার কিনছেন।

শুধু সার মজুত থাকলেই হবে না, প্রয়োজনের সময়ে প্রয়োজনমতো সার কৃষকের হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগ:
রিপোর্টারের সম্পর্কে

ইসলামপুরে নেই এসিল্যান্ড, ব্যাহত ভূমি সেবা

সার নিতে এসে ডিলারের দোকান বন্ধ পাওয়াই হতাশ কৃষক , ব্যাহত কৃষকের কর্মযজ্ঞ

প্রকাশের সময়: ০৬:৫৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সার নিতে এসে ডিলারের দোকান বন্ধ পাওয়াই হতাশ কৃষক , ব্যাহত কৃষকের কর্মযজ্ঞ

মোঃ এনামুল হক : –

ফসলের মাঠে কৃষকের ব্যস্ত সময়। আমনসহ বিভিন্ন ফসলের পরিচর্যায় নিয়মিত প্রয়োজন সার। কিন্তু জামালপুরের বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে সার সংগ্রহ করতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে একদিকে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের কর্মঘণ্টা, অন্যদিকে সময়মতো ফসলে সার প্রয়োগ নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

কৃষকদের অভিযোগ, দিন যত যাচ্ছে বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে সারের জন্য অপেক্ষার সারিও তত দীর্ঘ হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পেয়ে অনেক কৃষককে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।

১২টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত উপজেলায় কৃষকদের সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে ২২টি বিসিআইসি ডিলার পয়েন্ট থেকে। সরেজমিনে বিভিন্ন ডিলার পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, সার নিতে সকাল থেকেই কৃষকরা ভিড় করছেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষার সারি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও প্রয়োজনমতো সার না পাওয়ায় ইসলামপুর উপজেলা চরমন্নিয়া এলাকার আলম মিয়াসহ একাধিক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী,বেলগাছা,পাথর্শী, ইউনিয়নের, নাছির, মোতালেব, রশীদ, আলমসহ একাধিক কৃষকের ভাষ্য, ফসলের পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সারের পেছনেই দিনের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে। ডিলার পয়েন্টে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে খোলা বাজারে যাচ্ছেন। সেখানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

শুধু সার সরবরাহ নয়, ডিলার পয়েন্ট নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের মুনু মিয়া ও সাপধরী ইউনিয়নের প্রজাপতি গ্রামের কৃষক রশীদ মিয়াসহ একাধিক কৃষক। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন ইউনিয়নে ডিলার পয়েন্ট নির্ধারণে নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। প্রতিটি ইউনিয়নে তিনজন ডিলার থাকার কথা থাকলেও কোথাও একজন, আবার কোথাও চার থেকে পাঁচজন ডিলার রয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।

উপজেলা কৃষি অফিস ও কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নে দুটি এবং সাপধরী ইউনিয়নে রয়েছে একটি, বেলগাছা ইউনিয়ন একটি ডিলার পয়েন্ট। এ ছাড়া বিএডিসির অধিকাংশ ডিলার পয়েন্টই পৌর শহরকেন্দ্রিক বলে অভিযোগ কৃষকদের।

১৮সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল দশটার দিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার গুঠাইল বাজারে মেসার্স লিমা এন্টারপ্রাইজ, মানিকুল ইসলাম,এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মিজান এন্ড সন্স এন্টারপ্রাইজের ডিলার পয়েন্ট সাপধরী,বেলগাছা ইউনিয়ন চরবাসীরা হাটে এসে দোকান বন্ধ থাকায় সার নিতে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসার অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা।
এ ছাড়া এ অঞ্চলের অধিকাংশ ডিলার পয়েন্ট নিয়মিত খোলা না থাকার অভিযোগও রয়েছে তাদের।

কৃষকদের দাবি, যেসব ইউনিয়নে ডিলারের সংখ্যা বেশি, সেখানে বরাদ্দও বেশি যাচ্ছে। বিপরীতে কম ডিলার থাকা ইউনিয়নে তুলনামূলক কম বরাদ্দ পাওয়ায় সারের প্রাপ্যতায় বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এর ফলে কোনো কোনো ডিলার পয়েন্টে দীর্ঘ লাইন তৈরি হলেও অন্য এলাকায় তুলনামূলক কম চাপ থাকছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৫৫৭০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আমন চাষ হচ্ছে। পাশাপাশি ৫০০ হেক্টরের বেশি জমিতে বিভিন্ন ফসল ও সবজির চাষাবাদ চলছে। ফলে এ সময়ে কৃষকদের জন্য প্রতিটি দিনই গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পারলে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

কৃষকদের দাবি, ডিলার পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘ লাইন কমাতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় সার পাওয়ার নিশ্চয়তা চান তারা।

তবে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। তাহলে সরেজমিনে ডিলার পয়েন্টগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও কৃষকদের ভোগান্তির কারণ কী—সরবরাহে ঘাটতি, নাকি বিতরণ ব্যবস্থাপনায় সমস্যা?

এ বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সালের বলেন, যে পরিমাণ ডিলার থাকার কথা সে পরিমাণে নেই। নতুন নিয়োগ হলে এই সংকট কেটে উঠবে। আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করছি কৃষকের শ্রম ও সময় যেন সারের লাইনে আটকে না থাকে। কৃষকরা যাতে স্বচ্ছতার সাথে সার সংগ্রহ করতে পারে সেজন্য নিয়মিত আমরা পরিদর্শন করছি। তবে কিছু কৃষক গুজবের কান দিয়ে অগ্রিম সার কিনছেন।

শুধু সার মজুত থাকলেই হবে না, প্রয়োজনের সময়ে প্রয়োজনমতো সার কৃষকের হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।