
ইসলামপুরে বিনোদনকেন্দ্র নেই, খালপাড়েই স্বস্তি খুঁজছেন মানুষ
মোঃ এনামুল হক :
বিকেল নামলেই খালের পানিতে ভেসে চলে নৌকা। চারপাশে সবুজ ফসলের মাঠ, মাথার ওপর খোলা আকাশ। মৃদু বাতাসে বদলে যায় দিনের ব্যস্ততা। কেউ নৌকায় ঘুরছেন, কেউ খালের পাড়ে বসে গল্প করছেন। কেউ আবার মুঠোফোনে ছবি তুলছেন।
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের বানিয়াবাড়ি সেতু এলাকা এভাবেই জমে উঠেছে স্থানীয় মানুষের বিনোদনের জায়গা হিসেবে। প্রতিদিন এ-ই ভাবে বাড়ছে ভিড়।
গত শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে বানিয়াবাড়ি সেতু এলাকায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। ইসলামপুর -গুঠাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে স্থানীয় লোকজনের কাছে ‘সাতবিল’ নামে পরিচিত খালটি বর্ষার পানিতে পরিপূর্ণ। সেই পানিতেই এখন চলছে নৌকা।
বানিয়াবাড়ি সেতুর চারপাশে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। বন্ধুদের কাছে এ জায়গার কথা শুনে তিন কলেজশিক্ষার্থীও এসেছেন। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি তাঁরা মুঠোফোনে ছবি তুলছেন।
সব ঋতুতেই মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন বলে জানান পাশের ইসলামপুর গ্রামের যতীন্দ্রনাথ রায়। তিনি বলেন, বর্ষার পর দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যায়। তিন বছর ধরে তাঁরা এমন দৃশ্য দেখে আসছেন।
দর্শনার্থীর সঙ্গে অস্থায়ী দোকানও বেড়েছে
শুক্র ও শনিবার দর্শনার্থীর সংখ্যা অন্য দিনের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সেতুর দুই পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১০টি অস্থায়ী দোকান। কোথাও আখের রস, কোথাও ফুচকা, মাঠা, বাদাম ও ছোলা বিক্রি হচ্ছে।
বানিয়াবাড়ি সেতু এলাকায় শুক্র ও শনিবার বাদাম ও ছোলা বিক্রেতা দোকানি রনি মিয়া তিনি বলেন, এখানে এক দিনে তাঁর প্রায় এক থেকে দের হাজার টাকা আয় হয়।
একই কথা জানিয়ে মাঠা বিক্রেতা মো. মিলন বলেন, বিনোদনের জন্য এখানে মানুষের আনাগোনা ছোট ব্যবসায়ীদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।
শহরের আশপাশে খোলামেলা বিনোদনের জায়গা না থাকায় ইসলামপুর শহর ও ইসলামপুরের বাসিন্দা আসিক ইসলাম , জাকিউল হোসেন ও আঞ্জুয়ারা খাতুন ছুটির দিনে বানিয়াবাড়ি সেতু এলাকায় চলে আসেন। তাঁরা বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চাকরিজীবীদের অনেকেই পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে আসেন। নৌকায় ঘোরার পাশাপাশি খালের পাড়ে বসে সময় কাটান।
নিউজ ডেস্ক 








