
ইসলামপুরে এতিমখানার কমিটি নিয়ে বিতর্ক, ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ সমাজসেবার কর্মচারীর বিরুদ্ধে
এনামুল হক :
জামালপুরের ইসলামপুরে একটি এতিমখানার পরিচালনা কমিটি অনুমোদনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ করে একটি পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবদল নেতার বিরুদ্ধেও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে, যা সংশ্লিষ্টরা নাকচ করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিন বলেন, বেনুয়ারচর আব্দুল মালেক মণ্ডল এতিমখানার পরিচালনা কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তিনি কোনো ধরনের মারধর বা হামলার সঙ্গে জড়িত নন; বরং উভয় পক্ষের মধ্যে চলমান সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেছেন।
মলিন দাবি করেন, ঘটনাস্থলে মূলত কমিটি অনুমোদন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। পরে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রথমে আগের কমিটি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনেই একটি সুপারিশ করেছিলেন। পরে ওই কমিটিতে আওয়ামী লীগের লোকজন থাকার অভিযোগ ওঠায় সেটি বাতিল করে নতুন কমিটির জন্য সুপারিশ করা হয়। কিন্তু বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি না করে জেলা কার্যালয়ে পাঠানোর মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আব্দুল লতিফ বলেন, বেনুয়ারচর আব্দুল মালেক মণ্ডল এতিমখানার পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কমিটি অনুমোদনের জন্য দুটি পক্ষ পৃথক আবেদন জমা দেয়। উভয় আবেদনেই সংসদ সদস্যের সুপারিশ থাকায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ কারণে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
চরপুটিমারী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজু অভিযোগ করে বলেন, এতিমখানার পরিচালনা কমিটির অনুমোদনকে কেন্দ্র করে আব্দুল লতিফ ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সুরুজ মাস্টারকে সভাপতি করে কমিটি অনুমোদনের চেষ্টা করেন। পরে একই বিষয়ে দুটি কমিটি জেলা কার্যালয়ে পাঠিয়ে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি করা হয়।
রাজু আরও বলেন, বিষয়টি জানতে আব্দুল লতিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে দেখা করতে বলেন। সেখানে আলোচনার সময় কিছুটা হট্টগোল সৃষ্টি হলেও কোনো ধরনের মারধরের ঘটনা ঘটেনি। সরকারি কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল লতিফ বলেন, তিনি কোনো ধরনের অনিয়ম বা ঘুষের সঙ্গে জড়িত নন। বরং দায়িত্ব পালনের সময় তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. জুবায়ের জানিয়েছেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজ ডেস্ক 








