
তেল সংকটে, অচল হয়ে পড়েছে নৌকা: থমকে গেছে জেলে-মাঝিদের জীবনের গতি
মোঃ এনামুল হক :
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদী তীরবর্তী ঘাটগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে নৌ চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ডিজেল না পাওয়ায় খেয়া নৌকা বন্ধ করে বসে আছেন মাঝিরা। এতে করে চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ যেমন যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়ছেন, তেমনি জীবিকা হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন নৌযান মালিক, শ্রমিক ও জেলেরা।
উপজেলার গুঠাইল ঘাটের মাঝি আলতাফুর ও লান্জু আক্ষেপ করে বলেন, আগে বগুড়া থেকে বেশি দামে তেল এনে কোনোভাবে নৌকা চালাতেন, কিন্তু এখন সেই তেলও পাওয়া যাচ্ছে না।
সরেজমিনে গুঠাইল ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে নৌকা তীরে বেঁধে রাখা হয়েছে। মাঝিরা অলস সময় পার করছেন। অল্প কিছু নৌকা চললেও ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষের একমাত্র যাতায়াত মাধ্যম সীমিত হয়ে পড়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
গুঠাইল বাজার ঘাট থেকে সাধারণত নৌপথে গাইবান্ধা ও বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে ঈদুল ফিতরের আগ থেকেই তেলের সংকটে নৌ চলাচল কমে গেছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
একই ঘাটে নৌকা চালানো নৌকার মালিক ও ঘাট ইজারাদার লান্জুর প্রতিবার যাতায়াতে প্রায় ২০/২৫ কেজি ডিজেল লাগে। কিন্তু এখন তেল না থাকায় নৌকা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আগে ১০০ টাকার তেল এখন ১৮০ টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘাটের শ্রমিক লাবলু বলেন, নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় প্রতিদিনের কাজও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আয়হীন অবস্থায় দিন কাটছে তাদের।
অন্যদিকে, যমুনা নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে ধীরেন্দ্র দেবনাথ জানান, ৫ দিন ধরে তেলের অভাবে নদীতে যেতে পারছেন না।
তার মতে, তেল ছাড়া নদীতে গেলে মাঝপথে আটকে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই জীবিকার প্রধান উৎস থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
যাত্রীদের দুর্ভোগও কম নয়। বালাসি ঘাটে অপেক্ষমাণ বিপ্লব ধর বলেন, সকাল থেকে বসে থাকলেও কোনো নৌকা পাওয়া যায়নি। এতে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে।
ঘাটের ইজারাদার মো. আইনাল জানান, বিপুল অর্থ ব্যয়ে ঘাট ইজারা নেওয়ার পরও একের পর এক সংকটে পড়তে হচ্ছে। নদীতে পানি কম থাকার পর এবার তেলের সংকট নতুন করে বিপদ তৈরি করেছে।
এ অবস্থা চলতে থাকলে তারা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেল মজুদদারদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং বাজার মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ. কে. এম. আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদ বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামালপুরের যমুনা নদীর তীরবর্তী বাহাদুরাবাদ, মোরাদাবাদ, কুলকান্দি ও গুঠাইলসহ অন্তত নয়টি ঘাটে একই চিত্র দেখা গেছে। দ্রুত সংকট সমাধান না হলে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা আরও বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 












