ঢাকা ০২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উন্নয়নের স্বার্থে ২য় যমুনা সেতুতে ইসলামপুর-গুঠাইল বাজার-সাঘাটা-ফুলছড়ি রুটের দাবি

  • নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময়: ০৯:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • 8

উন্নয়নের স্বার্থে ২য় যমুনা সেতুতে ইসলামপুর-গুঠাইল বাজার-সাঘাটা-ফুলছড়ি রুটের দাবি

সৈয়দ এনামুর রকিব :-
জামালপুর অঞ্চলে সম্ভাব্য ২য় যমুনা সেতুর রুট নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বর্তমানে মাদারগঞ্জ-সারিয়াকান্দি এবং দেওয়ানগঞ্জ-বাহাদুরাবাদ-বালাশী রুট নিয়ে বেশি আলোচনা হলেও ইসলামপুর-গুঠাইল বাজার-সাঘাটা-ফুলছড়ি রুটকে সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে ফিজিবিলিটি স্টাডিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
প্রস্তাবিত এ রুট অনুযায়ী, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গুঠাইল বাজার অথবা কুলকান্দি এলাকা দিয়ে যমুনা নদী অতিক্রম করে গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার মধ্যবর্তী উপযুক্ত স্থানে সেতুর সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই রুটটি ফিজিবিলিটি স্টাডিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে উত্তরাঞ্চলের বহু জেলার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও সময় সাশ্রয়ী হতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, দেওয়ানগঞ্জ-বালাশী রুটে নদীর প্রস্থ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সেতুর দৈর্ঘ্য ও নির্মাণ ব্যয় বাড়তে পারে। অন্যদিকে মাদারগঞ্জ-সারিয়াকান্দি রুট বগুড়াবাসীর জন্য সুবিধাজনক হলেও পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা ও জয়পুরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলার মানুষের যাতায়াতে অতিরিক্ত দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে বলে দাবি করছেন অনেকে।
তাদের ভাষ্য, ইসলামপুর-গুঠাইল বাজার-সাঘাটা-ফুলছড়ি রুট বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের অন্তত ৯টি জেলার সঙ্গে যোগাযোগ দূরত্ব কমবে। এতে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও গতিশীল হবে বলে তারা মনে করছেন।
এছাড়া ইসলামপুর উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান জামালপুর জেলার প্রায় কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে মূলত দুটি রুট নিয়েই আলোচনা বেশি হচ্ছে। মাদারগঞ্জ-সারিয়াকান্দি রুটের পক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্যোগ নিচ্ছেন। অন্যদিকে দেওয়ানগঞ্জ-বাহাদুরাবাদ রুটের পক্ষে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সক্রিয় রয়েছেন। তবে ইসলামপুর-গুঠাইল বাজার-সাঘাটা-ফুলছড়ি রুট নিয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো জোরালো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর দাবি, জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে সম্ভাব্য সব রুটকে ফিজিবিলিটি স্টাডির আওতায় এনে নিরপেক্ষ ও বাস্তবভিত্তিক মূল্যায়ন করা হোক। পরে যে রুটটি দেশের অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী প্রমাণিত হবে, সেই রুটেই ২য় যমুনা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, নীতিনির্ধারক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ট্যাগ:
রিপোর্টারের সম্পর্কে

জনপ্রিয় খবর

চরপুটিমারি ইউনিয়নবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা যুবদল নেতা কুদ্দুছ খানের

উন্নয়নের স্বার্থে ২য় যমুনা সেতুতে ইসলামপুর-গুঠাইল বাজার-সাঘাটা-ফুলছড়ি রুটের দাবি

প্রকাশের সময়: ০৯:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

উন্নয়নের স্বার্থে ২য় যমুনা সেতুতে ইসলামপুর-গুঠাইল বাজার-সাঘাটা-ফুলছড়ি রুটের দাবি

সৈয়দ এনামুর রকিব :-
জামালপুর অঞ্চলে সম্ভাব্য ২য় যমুনা সেতুর রুট নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বর্তমানে মাদারগঞ্জ-সারিয়াকান্দি এবং দেওয়ানগঞ্জ-বাহাদুরাবাদ-বালাশী রুট নিয়ে বেশি আলোচনা হলেও ইসলামপুর-গুঠাইল বাজার-সাঘাটা-ফুলছড়ি রুটকে সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে ফিজিবিলিটি স্টাডিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
প্রস্তাবিত এ রুট অনুযায়ী, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গুঠাইল বাজার অথবা কুলকান্দি এলাকা দিয়ে যমুনা নদী অতিক্রম করে গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার মধ্যবর্তী উপযুক্ত স্থানে সেতুর সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই রুটটি ফিজিবিলিটি স্টাডিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে উত্তরাঞ্চলের বহু জেলার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও সময় সাশ্রয়ী হতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, দেওয়ানগঞ্জ-বালাশী রুটে নদীর প্রস্থ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সেতুর দৈর্ঘ্য ও নির্মাণ ব্যয় বাড়তে পারে। অন্যদিকে মাদারগঞ্জ-সারিয়াকান্দি রুট বগুড়াবাসীর জন্য সুবিধাজনক হলেও পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা ও জয়পুরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলার মানুষের যাতায়াতে অতিরিক্ত দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে বলে দাবি করছেন অনেকে।
তাদের ভাষ্য, ইসলামপুর-গুঠাইল বাজার-সাঘাটা-ফুলছড়ি রুট বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের অন্তত ৯টি জেলার সঙ্গে যোগাযোগ দূরত্ব কমবে। এতে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও গতিশীল হবে বলে তারা মনে করছেন।
এছাড়া ইসলামপুর উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান জামালপুর জেলার প্রায় কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে মূলত দুটি রুট নিয়েই আলোচনা বেশি হচ্ছে। মাদারগঞ্জ-সারিয়াকান্দি রুটের পক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্যোগ নিচ্ছেন। অন্যদিকে দেওয়ানগঞ্জ-বাহাদুরাবাদ রুটের পক্ষে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সক্রিয় রয়েছেন। তবে ইসলামপুর-গুঠাইল বাজার-সাঘাটা-ফুলছড়ি রুট নিয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো জোরালো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর দাবি, জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে সম্ভাব্য সব রুটকে ফিজিবিলিটি স্টাডির আওতায় এনে নিরপেক্ষ ও বাস্তবভিত্তিক মূল্যায়ন করা হোক। পরে যে রুটটি দেশের অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী প্রমাণিত হবে, সেই রুটেই ২য় যমুনা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, নীতিনির্ধারক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।