ঢাকা ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পাটের ফসল বিনষ্টের অভিযোগ, থানায় মামলা

  • নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময়: ১১:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • 5

জামালপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পাটের ফসল বিনষ্টের অভিযোগ, থানায় মামলা

এনামুল হক :

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রায় ১ একর ৩৮ শতাংশ জমির উঠতি পাটের ফসল কেটে বিনষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিবাদীপক্ষ নালিশী জমিতে প্রবেশ করে ফসল নষ্ট করেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরপুটিমারি ইউনিয়নের ডিগ্রিরচর আকন্দপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. তারা মিয়া গং, কিসমত গোবিন্দি মৌজার ৮৮০ নম্বর খতিয়ানের ৩৯৫৩ নম্বর দাগভুক্ত ১ একর ৩৮ শতাংশ জমির বৈধ মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের মুখোমুখি হয়ে আসছেন। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালত বিবাদীদের নালিশী ভূমিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগকারী দাবি করেন, আদালতের ওই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিবাদীপক্ষ বারবার জমিতে প্রবেশের চেষ্টা করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে তারা চাষকৃত উঠতি পাটের ফসল কেটে বিনষ্ট করে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগে কয়েক জনকে বিবাদী করা হয়েছে। তারা হলেন, , জল হক, জিয়াউর রহমান,বাবুল, ইসমাইল, হেলাল, জামাল উদ্দিন, সাদা মিয়া, আবুল কালাম, নূর ইসলাম, মন্টু, সুরুজ আলী,সোনাহার আলী,সোলায়মান আলী, খোকা মিয়া ও সাহেব ।

ভুক্তভোগী তারা মিয়ার অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার জমির পাট কেটে ফেলার ফলে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও বিবাদীরা আদালতের আদেশকে তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় ভবিষ্যতে আরও ক্ষয়ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তারা মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা বলেন, অনেক কষ্ট করে জমিতে পাটের আবাদ করেছিলাম। সেই পাটই ছিল আমাদের পরিবারের প্রধান আয়ের অন্যতম উৎস। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ফসল কেটে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

এ বিষয়ে ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন,লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের আদেশ অমান্য ও ফসল বিনষ্টের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগ:
রিপোর্টারের সম্পর্কে

ইসলামপুরে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা নদী পারের মানুষ

জামালপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পাটের ফসল বিনষ্টের অভিযোগ, থানায় মামলা

প্রকাশের সময়: ১১:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

জামালপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পাটের ফসল বিনষ্টের অভিযোগ, থানায় মামলা

এনামুল হক :

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রায় ১ একর ৩৮ শতাংশ জমির উঠতি পাটের ফসল কেটে বিনষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিবাদীপক্ষ নালিশী জমিতে প্রবেশ করে ফসল নষ্ট করেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরপুটিমারি ইউনিয়নের ডিগ্রিরচর আকন্দপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. তারা মিয়া গং, কিসমত গোবিন্দি মৌজার ৮৮০ নম্বর খতিয়ানের ৩৯৫৩ নম্বর দাগভুক্ত ১ একর ৩৮ শতাংশ জমির বৈধ মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের মুখোমুখি হয়ে আসছেন। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালত বিবাদীদের নালিশী ভূমিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগকারী দাবি করেন, আদালতের ওই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিবাদীপক্ষ বারবার জমিতে প্রবেশের চেষ্টা করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে তারা চাষকৃত উঠতি পাটের ফসল কেটে বিনষ্ট করে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগে কয়েক জনকে বিবাদী করা হয়েছে। তারা হলেন, , জল হক, জিয়াউর রহমান,বাবুল, ইসমাইল, হেলাল, জামাল উদ্দিন, সাদা মিয়া, আবুল কালাম, নূর ইসলাম, মন্টু, সুরুজ আলী,সোনাহার আলী,সোলায়মান আলী, খোকা মিয়া ও সাহেব ।

ভুক্তভোগী তারা মিয়ার অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার জমির পাট কেটে ফেলার ফলে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও বিবাদীরা আদালতের আদেশকে তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় ভবিষ্যতে আরও ক্ষয়ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তারা মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা বলেন, অনেক কষ্ট করে জমিতে পাটের আবাদ করেছিলাম। সেই পাটই ছিল আমাদের পরিবারের প্রধান আয়ের অন্যতম উৎস। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ফসল কেটে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

এ বিষয়ে ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন,লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের আদেশ অমান্য ও ফসল বিনষ্টের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।