
ইসলামপুরে দুর্গম চরে গভীর রাতে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ
মোঃ এনামুল হক :
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে গভীর রাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা ঘরের নারী সদস্যদের জিম্মি করে নগদ অর্থ স্বর্ণালঙ্কার, গুরুত্বপূর্ণ জমির কাগজপত্র ও দুটি গরু লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে দিন কাটছে ওই পরিবারের সদস্যদের।
ঘটনাটি ঘটেছে ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের কাশারীডোবা আমতলী গ্রামে। ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীন ও নজরুল ইসলাম বাদশার পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের সোলায়মান হকের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল মঙ্গলবার গভীর রাতে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
এদিকে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. আরিফুল ইসলাম ইসলামপুর থানার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে হামলার সময় ঘরের নারী সদস্যদের মারধর, ভাঙচুর, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাট এবং গরু নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে হামলার সঙ্গে জড়িতদের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই ছাগল পাটক্ষেতে ঢুকে ফসল খাওয়াকে কেন্দ্র করে সোলায়মান হক গং ও জয়নাল আবেদীন গংদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওইদিন দুপুরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে জয়নাল আবেদীন ও তার ভাই নজরুল ইসলাম বাদশাসহ উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। পরে তাদের ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযোগের জের ধরেই মঙ্গলবার গভীর রাতে আবারও তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। এসময় নজরুল ইসলাম বাদশার ছেলে বাবু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। তার মা নাজমা আক্তারের হাত-পা বেঁধে ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। একই সঙ্গে বাবু মিয়ার স্ত্রী লিমা আক্তারের গলায় ছুরি ধরে তাকে জিম্মি করে রাখা হয়।
আহত নাজমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাকে হাত-পা বেঁধে মেঝেতে ফেলে রাখে। আমি কিছুই করতে পারিনি। আমার চোখের সামনেই ঘরের সবকিছু ভেঙে ফেলে। স্টিলের ট্রাংক ভেঙে নগদ সাড়ে সাত লাখ টাকা ও আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়।”
বাবু মিয়া জানান, “আমার মা ও স্ত্রীকে জিম্মি করে ঘরে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, জমির গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করার পাশাপাশি দুটি বড় গরুও জোর করে টেনে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।”
এদিকে অভিযুক্ত সোলায়মান হক ও তার সহযোগীদের বাড়িতে গিয়ে কোনো পুরুষ সদস্যকে পাওয়া যায়নি। সেখানে থাকা সোলায়মান হকের স্ত্রী রিক্তা বেগম জানান, তার স্বামী বর্তমানে জামালপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গভীর রাতের ঘটনার পর বাড়ির অন্যরা কোথায় গেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
দুর্গম চরাঞ্চলের একটি পরিবারের ওপর গভীর রাতে এমন হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিউজ ডেস্ক 








