ঢাকা ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামপুরে যমুনার চরে ২৯.৭ একর জমি জবরদখলের পাঁয়তারা, প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ

  • নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময়: ০৪:২৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • 15

ইসলামপুরে যমুনার চরে ২৯.৭ একর জমি জবরদখলের পাঁয়তারা, প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মোঃ এনামুল হক :
একদিকে যমুনার ভাঙনে সর্বস্ব হারানোর ভয়, অন্যদিকে নদীর চরে থাকা জমিটুকুও হারানোর শঙ্কা। পৈতৃক ও রেকর্ডভুক্ত জমি রক্ষায় এখন দিশেহারা জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের প্রজাপতি মৌজার কয়েকজন ভূমিমালিক।
অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী একটি চক্র একটি পুরোনো রেকর্ডের সূত্র দেখিয়ে প্রায় ২৯ দশমিক ৭ একর জমি দখলে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে।

এ ঘটনায় সাপধরী ইউনিয়ন প্রজাপতি ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আহম্মদ আলীসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রজাপতি মৌজার ৩৭ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ২৯ দশমিক ৭ একর জমির মালিকানা সিএস এবং ১৯৬২ সালের রেকর্ডেই তাদের নামে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এসব জমি ভোগদখল করে আসছেন।

তবে সম্প্রতি আহম্মদ আলী, মো সুলতান,মো মোস্তফা ও মোছা কুলসুম বেগম নামের চারজনের একটি দল ১৯৮৩ সালের একটি কোর্টের নির্দেশনা দেখিয়ে ওই জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তাদের।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নদীর বুকে জেগে ওঠা চরাঞ্চলের এই জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রভাবশালী মহলের চাপ ও দখলের তৎপরতায় তারা এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা জোরপূর্বক জমি দখল হয়ে গেলে আইনি লড়াই করেও তা ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

তারা বলছেন, যে জমির সঙ্গে তাদের পূর্বপুরুষের স্মৃতি, জীবিকা আর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে, সেই জমিই যদি প্রভাবের জোরে কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে তারা কোথায় দাঁড়াবেন?

ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে সিএস, সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ড যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং কোনো পক্ষ যেন জোরপূর্বক জমি দখল করতে না পারে, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী নেতা আহম্মদ আলী জানান, ৬ একর জমির বৈধ নথিপত্র রয়েছে তার, জবরদখল না নালিশী জমি তার দখলেই রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আহম্মদ আলী
সহ অন্যদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা এই প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে। রেকর্ডের কাগজে যার জমি, দখলের জোরে কি সেই জমিই হারাতে হবে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে যমুনার চরের অসহায় ভূমিমালিকদের মনে।

ট্যাগ:
রিপোর্টারের সম্পর্কে

ইসলামপুরে যমুনার চরে ২৯.৭ একর জমি জবরদখলের পাঁয়তারা, প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ইসলামপুরে যমুনার চরে ২৯.৭ একর জমি জবরদখলের পাঁয়তারা, প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ০৪:২৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামপুরে যমুনার চরে ২৯.৭ একর জমি জবরদখলের পাঁয়তারা, প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মোঃ এনামুল হক :
একদিকে যমুনার ভাঙনে সর্বস্ব হারানোর ভয়, অন্যদিকে নদীর চরে থাকা জমিটুকুও হারানোর শঙ্কা। পৈতৃক ও রেকর্ডভুক্ত জমি রক্ষায় এখন দিশেহারা জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের প্রজাপতি মৌজার কয়েকজন ভূমিমালিক।
অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী একটি চক্র একটি পুরোনো রেকর্ডের সূত্র দেখিয়ে প্রায় ২৯ দশমিক ৭ একর জমি দখলে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে।

এ ঘটনায় সাপধরী ইউনিয়ন প্রজাপতি ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আহম্মদ আলীসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রজাপতি মৌজার ৩৭ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ২৯ দশমিক ৭ একর জমির মালিকানা সিএস এবং ১৯৬২ সালের রেকর্ডেই তাদের নামে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এসব জমি ভোগদখল করে আসছেন।

তবে সম্প্রতি আহম্মদ আলী, মো সুলতান,মো মোস্তফা ও মোছা কুলসুম বেগম নামের চারজনের একটি দল ১৯৮৩ সালের একটি কোর্টের নির্দেশনা দেখিয়ে ওই জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তাদের।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নদীর বুকে জেগে ওঠা চরাঞ্চলের এই জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রভাবশালী মহলের চাপ ও দখলের তৎপরতায় তারা এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা জোরপূর্বক জমি দখল হয়ে গেলে আইনি লড়াই করেও তা ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

তারা বলছেন, যে জমির সঙ্গে তাদের পূর্বপুরুষের স্মৃতি, জীবিকা আর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে, সেই জমিই যদি প্রভাবের জোরে কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে তারা কোথায় দাঁড়াবেন?

ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে সিএস, সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ড যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং কোনো পক্ষ যেন জোরপূর্বক জমি দখল করতে না পারে, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী নেতা আহম্মদ আলী জানান, ৬ একর জমির বৈধ নথিপত্র রয়েছে তার, জবরদখল না নালিশী জমি তার দখলেই রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আহম্মদ আলী
সহ অন্যদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা এই প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে। রেকর্ডের কাগজে যার জমি, দখলের জোরে কি সেই জমিই হারাতে হবে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে যমুনার চরের অসহায় ভূমিমালিকদের মনে।