ঢাকা ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পানির অভাবে পাট জাগে খরচ বাড়ছে কৃষকের

  • নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময়: ১০:৫৫:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • 26

পানির অভাবে পাট জাগে খরচ বাড়ছে কৃষকের

মোঃ এনামুল হক :

খরার কারণে পাটখেতের পাশে এবার পানি নেই। পাটচাষিদের পাট কেটে জাগ দেওয়ার জন্য দূরের জলাশয়ে ট্রলি বা ঘোড়ার গাড়িতে পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে।
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়ন মন্ডলপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল আজিজ মিয়া এক বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করে চরম বিপাকে পড়েছেন। কারণ, খেতের পাট পচানো বা জাগ দেওয়ার মতো পানি আশপাশের দেড়-দুই কিলোমিটারের মধ্যে নেই। পাট পচানোর সময় পেরিয়ে যাওয়ায় খেতের পাট শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। বাধ্য হয়ে তিনি মটর গাড়ি ভাড়া করে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে ব্রহ্মপুত্র নদীতে পাট পচানোর জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। এতে তাঁর প্রতি বিঘায় অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা।
আজিজ মিয়া বলেন, ‘প্রতিবছর পাট কাটার এই সময়ে জমির চারদিক জুইড়্যা কোথাও বুকসমান কোথাও সাঁতারপানি থাকে। কিন্তু এবার চারদিক একেবারে শুকনা। পুষ্ট হওয়ায় দুই সপ্তাহ আগেই পাট কাটা দরকার ছিল। কিন্তু বৃষ্টি আর পানির আশায় থাইক্যাও কুনু কাজ হলো না। তাই ম্যালা দূরে পাট পচানোর জন্য নিয়্যা যাত্যাছি। এতে বিঘায় শুধু পাঁচ হাজার টাকা বেশিই লাগতেছে না, চরম দুর্ভোগও সহ্য করা লাগত্যাছে।’খেতের পাট পচানো বা জাগ দেওয়ার মতো পানি আশপাশের দেড়-দুই কিলোমিটারের মধ্যে নেই।

আজিজ মিয়ার মতো এবার পাট পচানো নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার পাটচাষিরা। পানির অভাবে জমি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে নদী অথবা অন্য কোনো জলাশয়ে পাট পচানোর জন্য নিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁদের। এতে পাটের উৎপাদন খরচের সঙ্গে পরিবহন ভাড়া ও কামলা খরচ হিসেবে অতিরিক্ত পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা যুক্ত হচ্ছে।
পাটচাষিরা হিসাব করে জানান, পাট কেটে দূরের কোনো নদী বা জলাশয়ে নিতে প্রতি বিঘার জন্য ট্রলি অথবা ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া লাগছে কমপক্ষে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। এ ছাড়া দূরে নিয়ে সেখানে পচানোর জন্য জাগ তৈরিসহ পাট নিয়ে যাওয়া ও আনা বাবদ চারজন কামলা অতিরিক্ত লাগছে। দৈনিক ৭০০ টাকা হিসেবে ৪ জন কামলার মজুরিবাবদ অতিরিক্ত লাগছে ২ হাজার ৮০০ টাকা। এতে পরিবহন ভাড়া ও কামলা খরচ মিলিয়ে গচ্চা যাচ্ছে কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকা। পাটচাষিরা জানান, অন্য বছর বাড়ি বা জমির কাছে পাট পচানোর পর বাড়ির নারী-শিশুরা পাট ছাড়ানোতে অংশ নিয়েছে। কিন্তু এবার কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে পাট পচানোয় সেখানে নারী-শিশুদের নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ফলে পাট ছাড়ানো বাবদও অতিরিক্ত খরচ এবার গুনতে হচ্ছে।
এ দিকে পাটচাষি ও উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, খরার কারণে গত বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলন ও মান কিছুটা খারাপ হয়েছে। এর আগে বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ ফলন পাওয়া গেলেও এবার পাওয়া যাচ্ছে আট মণের কাছাকাছি। এ ছাড়া পাটের আঁশের মানও আগের তুলনায় কিছুটা খারাপ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবার সাঁথিয়া উপজেলায় ৭ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। কিন্তু পানির অভাবে প্রতি বিঘায় অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাওয়ায় এবার পাটেও লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
কৃষকেরা জানান, বাজারে এখন ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে। দূরে পাট পচানোর জন্য নিয়ে যাওয়ার কারণে বিঘাপ্রতি অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা খরচ না হলে এমন দামে কৃষকদের প্রতি মণে ৭০০থেকে ৬০০ টাকা লাভ হতো। কিন্তু অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা খরচের জন্য কোনোরকমে উৎপাদন খরচ উঠছে তাঁদের।

 

ট্যাগ:
রিপোর্টারের সম্পর্কে

ইসলামপুরে যমুনার চরে ২৯.৭ একর জমি জবরদখলের পাঁয়তারা, প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ

পানির অভাবে পাট জাগে খরচ বাড়ছে কৃষকের

প্রকাশের সময়: ১০:৫৫:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

পানির অভাবে পাট জাগে খরচ বাড়ছে কৃষকের

মোঃ এনামুল হক :

খরার কারণে পাটখেতের পাশে এবার পানি নেই। পাটচাষিদের পাট কেটে জাগ দেওয়ার জন্য দূরের জলাশয়ে ট্রলি বা ঘোড়ার গাড়িতে পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে।
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়ন মন্ডলপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল আজিজ মিয়া এক বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করে চরম বিপাকে পড়েছেন। কারণ, খেতের পাট পচানো বা জাগ দেওয়ার মতো পানি আশপাশের দেড়-দুই কিলোমিটারের মধ্যে নেই। পাট পচানোর সময় পেরিয়ে যাওয়ায় খেতের পাট শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। বাধ্য হয়ে তিনি মটর গাড়ি ভাড়া করে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে ব্রহ্মপুত্র নদীতে পাট পচানোর জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। এতে তাঁর প্রতি বিঘায় অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা।
আজিজ মিয়া বলেন, ‘প্রতিবছর পাট কাটার এই সময়ে জমির চারদিক জুইড়্যা কোথাও বুকসমান কোথাও সাঁতারপানি থাকে। কিন্তু এবার চারদিক একেবারে শুকনা। পুষ্ট হওয়ায় দুই সপ্তাহ আগেই পাট কাটা দরকার ছিল। কিন্তু বৃষ্টি আর পানির আশায় থাইক্যাও কুনু কাজ হলো না। তাই ম্যালা দূরে পাট পচানোর জন্য নিয়্যা যাত্যাছি। এতে বিঘায় শুধু পাঁচ হাজার টাকা বেশিই লাগতেছে না, চরম দুর্ভোগও সহ্য করা লাগত্যাছে।’খেতের পাট পচানো বা জাগ দেওয়ার মতো পানি আশপাশের দেড়-দুই কিলোমিটারের মধ্যে নেই।

আজিজ মিয়ার মতো এবার পাট পচানো নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার পাটচাষিরা। পানির অভাবে জমি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে নদী অথবা অন্য কোনো জলাশয়ে পাট পচানোর জন্য নিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁদের। এতে পাটের উৎপাদন খরচের সঙ্গে পরিবহন ভাড়া ও কামলা খরচ হিসেবে অতিরিক্ত পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা যুক্ত হচ্ছে।
পাটচাষিরা হিসাব করে জানান, পাট কেটে দূরের কোনো নদী বা জলাশয়ে নিতে প্রতি বিঘার জন্য ট্রলি অথবা ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া লাগছে কমপক্ষে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। এ ছাড়া দূরে নিয়ে সেখানে পচানোর জন্য জাগ তৈরিসহ পাট নিয়ে যাওয়া ও আনা বাবদ চারজন কামলা অতিরিক্ত লাগছে। দৈনিক ৭০০ টাকা হিসেবে ৪ জন কামলার মজুরিবাবদ অতিরিক্ত লাগছে ২ হাজার ৮০০ টাকা। এতে পরিবহন ভাড়া ও কামলা খরচ মিলিয়ে গচ্চা যাচ্ছে কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকা। পাটচাষিরা জানান, অন্য বছর বাড়ি বা জমির কাছে পাট পচানোর পর বাড়ির নারী-শিশুরা পাট ছাড়ানোতে অংশ নিয়েছে। কিন্তু এবার কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে পাট পচানোয় সেখানে নারী-শিশুদের নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ফলে পাট ছাড়ানো বাবদও অতিরিক্ত খরচ এবার গুনতে হচ্ছে।
এ দিকে পাটচাষি ও উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, খরার কারণে গত বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলন ও মান কিছুটা খারাপ হয়েছে। এর আগে বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ ফলন পাওয়া গেলেও এবার পাওয়া যাচ্ছে আট মণের কাছাকাছি। এ ছাড়া পাটের আঁশের মানও আগের তুলনায় কিছুটা খারাপ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবার সাঁথিয়া উপজেলায় ৭ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। কিন্তু পানির অভাবে প্রতি বিঘায় অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাওয়ায় এবার পাটেও লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
কৃষকেরা জানান, বাজারে এখন ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে। দূরে পাট পচানোর জন্য নিয়ে যাওয়ার কারণে বিঘাপ্রতি অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা খরচ না হলে এমন দামে কৃষকদের প্রতি মণে ৭০০থেকে ৬০০ টাকা লাভ হতো। কিন্তু অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা খরচের জন্য কোনোরকমে উৎপাদন খরচ উঠছে তাঁদের।