ঢাকা ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃত্যুর আগেই নিজের চল্লিশা, ২ হাজারের ও অধিক গ্রামবাসীকে খাওয়ালেন বৃদ্ধ

  • নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময়: ০৩:০৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • 13

মৃত্যুর আগেই নিজের চল্লিশা, ২ হাজারের ও অধিক গ্রামবাসীকে খাওয়ালেন বৃদ্ধ

মোঃ এনামুল হক :

মারা যাওয়ার আগেই নিজের চল্লিশার আয়োজন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন আব্দুস সামাদ (৭০) নামের এক বৃদ্ধ।
বুধবার (৫আগষ্ট) জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের পূর্ব বাহাদুরপুর গ্রামে দুই হাজারের অধিক মানুষ নিয়ে এ মেজবানের আয়োজন করেন তিনি। সামাদ আলী ওই এলাকার মৃত শুকর আলীর ছেলে।

দাওয়াত খেতে আসা একই এলাকার প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা নুরুল ইসলাম (নুর) জানান, সামাদ সংসার জীবনে বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছেন। তার সংসারে রয়েছে ৩ মেয়ে ও ৪ ছেলে। এলাকায় বিত্তশালী কৃষক হিসাবে ব্যাপক পরিচিত। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেরা কেউ বিয়ে করে আলাদা আবার কেউবা লেখাপড়া করছেন।
এ অবস্থায় সামাদ চিন্তা করেন নিজের জমিজমা ভাগ বাটোয়ারা করে দিয়ে দেবেন। এরপর অপেক্ষা পরপারে চলে যাওয়ার। এরমধ্যে মাথায় আসে তিনি মারা গেলে সন্তানরা যদি চল্লিশা না করে। এ জন্য তিনি নিজের চল্লিশা জীবিত অবস্থায় করে যেতে মনস্থির করেন।
পরে ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বললে তাদের সম্মতিতে আয়োজন করেন চল্লিশা। এজন্য তিনি বেশ কয়েকদিন সময় নিয়ে লোকজনকে দাওয়াত দেন। বুধবার দুপুরে বাড়ির ভেতরে ডেকোরেটর দিয়ে সামিয়ানা টাঙিয়ে দুই হাজারের অধিক নারী-পুরুষকে খাওয়ান।

সামাদ জানান, শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছি। নামাজ ছাড়া এখন তেমন কোনো কাজকর্ম করি না। চল্লিশার জন্য এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের দুই টি গরু, ২০ হাজার টাকার একটি খাসি কেনা হয়।

দাওয়াত খেতে আসা আব্দুল কদ্দুস বলেন, জীবিত ব্যক্তি নিজের চল্লিশার আয়োজন করেছেন সেটি ব্যতিক্রম ঘটনা। তৃপ্তি সহকারে আমরা খেয়েছি।

সামাদের ছেলে সামিউল বলেন, বাবার ইচ্ছায় তিনি জীবিত অবস্থায় এ মেজবানির আয়োজন করেন। তাই আমাদেরও সম্মতি ছিল। তবে বাবা না থাকলেও আমরা তার আত্মার শান্তির জন্য এটা করতাম।
মেয়ে সাজেদা বলেন, বাবার একটা সন্দেহ দূর করতেই এ আয়োজনে সবার সম্মতি ছিল। এতে আমাদেরও ভালো লাগছে। তবে আমার ভাইয়েরা সাধ্যমত অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন।

 

ট্যাগ:
রিপোর্টারের সম্পর্কে

ইসলামপুরে যমুনার চরে ২৯.৭ একর জমি জবরদখলের পাঁয়তারা, প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মৃত্যুর আগেই নিজের চল্লিশা, ২ হাজারের ও অধিক গ্রামবাসীকে খাওয়ালেন বৃদ্ধ

প্রকাশের সময়: ০৩:০৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

মৃত্যুর আগেই নিজের চল্লিশা, ২ হাজারের ও অধিক গ্রামবাসীকে খাওয়ালেন বৃদ্ধ

মোঃ এনামুল হক :

মারা যাওয়ার আগেই নিজের চল্লিশার আয়োজন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন আব্দুস সামাদ (৭০) নামের এক বৃদ্ধ।
বুধবার (৫আগষ্ট) জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের পূর্ব বাহাদুরপুর গ্রামে দুই হাজারের অধিক মানুষ নিয়ে এ মেজবানের আয়োজন করেন তিনি। সামাদ আলী ওই এলাকার মৃত শুকর আলীর ছেলে।

দাওয়াত খেতে আসা একই এলাকার প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা নুরুল ইসলাম (নুর) জানান, সামাদ সংসার জীবনে বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছেন। তার সংসারে রয়েছে ৩ মেয়ে ও ৪ ছেলে। এলাকায় বিত্তশালী কৃষক হিসাবে ব্যাপক পরিচিত। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেরা কেউ বিয়ে করে আলাদা আবার কেউবা লেখাপড়া করছেন।
এ অবস্থায় সামাদ চিন্তা করেন নিজের জমিজমা ভাগ বাটোয়ারা করে দিয়ে দেবেন। এরপর অপেক্ষা পরপারে চলে যাওয়ার। এরমধ্যে মাথায় আসে তিনি মারা গেলে সন্তানরা যদি চল্লিশা না করে। এ জন্য তিনি নিজের চল্লিশা জীবিত অবস্থায় করে যেতে মনস্থির করেন।
পরে ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বললে তাদের সম্মতিতে আয়োজন করেন চল্লিশা। এজন্য তিনি বেশ কয়েকদিন সময় নিয়ে লোকজনকে দাওয়াত দেন। বুধবার দুপুরে বাড়ির ভেতরে ডেকোরেটর দিয়ে সামিয়ানা টাঙিয়ে দুই হাজারের অধিক নারী-পুরুষকে খাওয়ান।

সামাদ জানান, শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছি। নামাজ ছাড়া এখন তেমন কোনো কাজকর্ম করি না। চল্লিশার জন্য এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের দুই টি গরু, ২০ হাজার টাকার একটি খাসি কেনা হয়।

দাওয়াত খেতে আসা আব্দুল কদ্দুস বলেন, জীবিত ব্যক্তি নিজের চল্লিশার আয়োজন করেছেন সেটি ব্যতিক্রম ঘটনা। তৃপ্তি সহকারে আমরা খেয়েছি।

সামাদের ছেলে সামিউল বলেন, বাবার ইচ্ছায় তিনি জীবিত অবস্থায় এ মেজবানির আয়োজন করেন। তাই আমাদেরও সম্মতি ছিল। তবে বাবা না থাকলেও আমরা তার আত্মার শান্তির জন্য এটা করতাম।
মেয়ে সাজেদা বলেন, বাবার একটা সন্দেহ দূর করতেই এ আয়োজনে সবার সম্মতি ছিল। এতে আমাদেরও ভালো লাগছে। তবে আমার ভাইয়েরা সাধ্যমত অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন।