
জামালপুরের মিল্লি ভাত এক ঐতিহ্যের গল্প
এনামুল হক :
গ্রামবাংলার মাটির গন্ধে মিশে আছে বহু বছরের ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যের এক অনন্য নাম মিল্লি ভাত। বিশেষ করে জামালপুরের ইসলামপুর অঞ্চলের মানুষের কাছে এটি শুধু খাবার নয়, বরং ভালোবাসা, ঐক্য আর মিলনের এক আবেগঘন গল্প।
কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান,মিলাদ মাহফিল সামাজিক আয়োজন কিংবা রমজানের ইফতার আয়োজনে গ্রামের মানুষ একত্রিত হলেই বড় বড় ডেগে রান্না হয় এই মিল্লি ভাত।
কেউ বলে মিল্লি, কেউ পিঠালি, কেউবা আবার মেন্দা নামেও চিনে এই সুস্বাদু খাবারটিকে, উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয় গরুর মাংস, চাউলের গুড়া আর ঘ্রাণ ছড়ানো মসলায় ধীরে ধীরে তৈরি হয় শত মানুষের ভাগাভাগির সেই খাবার। ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় প্রস্তুতি। কেউ চাল ধুচ্ছেন, কেউ মাংস কাটছেন, আবার কেউ আগুন জ্বালিয়ে বসেছেন ডেগের পাশে। যেন পুরো গ্রাম মিলে এক উৎসবের আয়োজন।
কলাপাতা বা বড় থালায় সাজিয়ে পরিবেশন করা হয় মিল্লি ভাত। ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে সবাই বসেন এক কাতারে। হাসি,গল্প ভাগাভাগির আনন্দে যেন আরও জমে ওঠে জামালপুরের ইসলামপুরে এই প্রাণের উৎসব মিল্লি ভাত।
সময়ের সাথে অনেক কিছু বদলে গেলেও, জামালপুরের মানুষের হৃদয়ে আজও বেঁচে আছে এই মিল্লি ভাতের ঐতিহ্য। যা মনে করিয়ে দেয় একসাথে থাকার আনন্দই সবচেয়ে বড় শক্তি।গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য শুধু একটি খাবারের গল্প নয়। এটি মানুষের হৃদয়ের বন্ধন, সম্প্রীতির বার্তা আর প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা ভালোবাসার ইতিহাস।
জামালপুরের ইসলামপুরে গ্রামীণ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকা এই মিল্লি ভাত আজও মানুষের মাঝে ধরে রেখেছে ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির মেলবন্ধন।
নিউজ ডেস্ক 


















